Copyright

Protected by Copyscape Duplicate Content Software You will copy with risks to penalties and criminal procedures.

Sunday, November 05, 2017

কালু

জেঠিমা মারা যাবার পর জেঠামশাই ভীষণ মুষড়ে পড়েছিলেন। জেঠুর ছেলে পুলে নেই।  ভাই বোনদের বিয়ে দিয়ে যখন নিজে বিয়ে করলেন তখন বিয়ের বয়েস কবেই পেরিয়ে গেছে। সন্তান সন্ততি বলতে চার ভাইএর একান্নবর্তী পরিবারের ছেলে মেয়েরা। জেঠুর কাছে বায়না করলেই পাওয়া যায় বলে জেঠুকে সবাই ভালোবাসত।  জেঠিমা খুব চুপ চাপ ছিলেন। অসুখ হয়ে মারা যাবার পর জেঠুর জন্যে মন খারাপ হল সবারই। ভালোবাসা কখনো করুণার স্রোতে বাড়ে কিনা।

জেঠু উত্তর ঘরে একা শোন বলে বাড়ির মালিকে বলা হল রাতে উত্তরের দালানে শুতে। জেঠুর শোবার ঘর দোতালায়। নিচে ঘরে ডাক্তারের চেম্বার। খুব অল্প বয়েসেই হোমিওপ্যাথির ডাক্তারি করে নাম করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রী বিগত হয়েছেন অবধি চেম্বারে তালা। পুরোনো রোগী কেউ এলে এটা ওটার পুরিয়া বানিয়ে দেন কিন্তু আগের মত সেই উৎসাহ কিছুতেই নেই। 

খাওয়া দাওয়া ও খুব কমে গেছে।  ক্রমেই তিনি রোগা ভোগা দেখতে হয়ে গেলেন। গলার স্বরও যেন কেমন বদলে যেতে লাগল।  রাতারাতি বুড়িয়ে যাওয়া মানুষকে দেখে যেমন আঁতকে ওঠে লোকে, পুরোনো পরিচিতরা জেঠুকে দেখে সেই প্রতিক্রিয়াই করতেন।  অনেকেই নিজেই ডাক্তারি করে বলতেন- ক্যালি ফোস বা গেলসেমিয়াম খান না কটা !

জেঠু হেসে বলতেন আর আমার জীবনের ক্যালি ফোসই তো ফুস করে পালিয়ে গেল, এখন আর ওষুধ খেয়ে কি হবে ?

আমরা ভাই বোনরা মিলে ঠিক করলাম যে জেঠুর নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্যে একটা কুকুর এনে দেব। পাড়ার ভুলোদের বাড়ির কুকুরটা তিনটে ছানা দিয়েছেল।  সেগুলো একটু বড় হলেই একটা নিয়ে আসা হবে ঠিক হল।

যে কথা, সেই কাজ। কুকুর ছানাটা কুঁচকুঁচে কালো বলে তার নাম রাখা হল কালু।  প্রথম কালুকে নিয়ে গিয়ে জেঠুর পায়ের কাছে রাখা হল। জেঠু দোতালার ইজিচেয়ারে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন।  বিকেলে চা খেতে খেতে পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটা তখনো ছিল। কালু জেঠুকে দেখে আহ্বলাদে আধখানা। মনের আনন্দে লেজ নাড়তে নাড়তে  এক পা তুলে হিসি করে দিল। সেই দেখে জেঠু বলে উঠলেন - ওরে, ব্যাটার পেটে লিক আছে !

সেই নিয়ে আমরা খুব হাসা হাসি করলাম।

কালু আসাতে ভালোই হল।  বিকেলে স্কুল থেকে এসে ফুটবল খেললে সেও পায়ে পায়ে হেঁটে অনেক চেষ্টা করত গোল দিতে।  ক্রিকেট খেললে বল কুঁড়িয়ে আনত বাগান থেকে।  অনেক সময় হিংসুটিপনাও করত।  মুখ থেকে বল দিতে চাইত না। অনেক কাকুতি মিনতি করে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে তোষামোদ করলে তবেই সে বল দিত।রাত হলে খাবার খেয়ে কালু দোতালার বারান্দায় শুয়ে পাহারা দিত। মালির সঙ্গেও তার বেশ ভাব হয়ে গিয়েছিল।এই রকম করেই আমাদের দিন কাঁটছিল।

চেম্বার বন্ধ থাকার দরুণ ঝাড় পোঁছ আগের মতো হত না । ঝি মাঝে মাঝে গিয়ে দরজা জানলা খুলে ঝুল কালি পরিষ্কার করত।  একবার হল কি, আমার চার বছরের খুড়তুতো বোন উঠোনের ধারে খেলছিল।  ওষুধ পত্র থাকত বলে আমরা কেউই চেম্বারে বিশেষ যেতাম না।  তাই ভেতরটা দেখার কৌতূহলও খুব থাকত। খুকিরও বোধ হয় তাই। সেই বয়েসে মানা করার কারণ বোঝানোও শক্ত।  সে করল কি -ঝি পোঁছা দিয়ে এক বালতি কাদা জল ফেলতে কলপার গেল নতুন জল আনবে বলে আর খুকি গুটি গুটি পায়ে চেম্বারে ঢুকে পড়ল।

তাই দেখে কালুর কি চেঁচামেচি ! সে ছুটে গিয়ে চেম্বারে কাকে খুব বকতে লাগলো।  হাঙ্গামা শুনে আমরা খেলা ছেড়ে উত্তর দালানের দিকে দৌঁড়ে গেলাম। গিয়ে দেখি খুকি দুয়ারে বসে কাঁদছে।  আর কালু ভীম বিক্রমে এক কালো কেউটের সঙ্গে ঝগড়া করছে আর খুব বকছে।  চেম্বার অনেক দিন বন্ধ থাকায় ইনি এসে আস্তানা গেড়েছেন। কেউটে ফণা তুলে কালুকে এই কামড়ায় কি সেই কামড়ায়।  দু তিন বার ছোবল মারার ব্যর্থ চেষ্টাও করল। কিন্তু কালু আমাদের ব্ল্যাক কমান্ডো। তাকে নাগাল পাওয়া ভার। অনেক পুরোনো বাড়িতে বাস্তুসাপ থাকে ঠিকই কিন্তু এখানে তো মানুষের বাস আছে। বিষাক্ত সাপ থাকলে সর্বনাশ!

সঙ্গে সঙ্গে লাঠি সোঠা এনে সেই সাপ তাড়ানো হল।  বাড়ির পশ্চিম দিকে একটা পুকুর ছিল সেই দিকে সাপটা পালাল। বাড়ির চারদিকে কার্বলিক অ্যাসিড দেওয়া হল। আর সবাইকে সাবধান করা হল চোখ কান খোলা রাখতে।  কিছু দিন আমরা রাতে টয়লেট যেতে সঙ্গে টর্চবাতি, লাঠি আর মালিকে ডেকে নিয়ে গেলাম । 

কালুকে সাপে কেটেছে কিনা দেখে জেঠু ওর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে সস্নেহে বললেন - আজ থেকে তোর নাম বীর বাহাদুর কালু সর্দার।

কালু বলল - উফ!

এই ঘটনার পর একটা জিনিস হল - ভারতবৰ্ষে সাপের কামড়ে যে প্রতি বছর ৪৬,০০০ এরও বেশি লোক মারা যায় সেটা জানতে পেরে জেঠু উঠে পরে লাগলেন এন্টি-ভেনম কিনে এনে গ্রামে গঞ্জের হাসপাতালে বিতরণ করতে।  অনেক দিন পর তিনি যেন জীবনে নতুন উদ্দেশ্য খুঁজে পেলেন।

Friday, October 06, 2017

শ্রী শ্রী লক্ষ্মী দেবীর মডার্ন পাঁচালি

Every Thursday Mom used to wear aalta (আলতা) on her feet and read Lokhhir PaNchali (লক্ষ্মী পাঁচালি) aloud for the vespers.

I read the full PaNchali yesterday and realized those were scare tactics to keep the womenfolk in line. Virtuous women those days were not supposed to laugh loudly. Too much make up and talkativeness was also a sign of an Olokhhi (অলক্ষ্মীর চিহ্ন) 

Any form of expression was considered a threat to the repression womenfolk faced even in one of the most liberal societies. I wrote this new PaNchali as an addendum to the duties of women. If you want the goddess to live in your house, you can't abuse the women in that family.



শ্রী শ্রী লক্ষ্মী দেবীর মডার্ন পাঁচালি
(নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে 
প্রথম খন্ড  )

লক্ষ্মী সহ একাসনে বসি নারায়ণ ।
কৌতুকে করিছে নানা কথা আলাপন ।।

হেনকালে বীণা হাতে দেবর্ষি নারদে।
প্রণাম করিল লক্ষ্মী-নারায়ণ পদে ।।

অন্নাভাবে জীর্ন  জীব বলহীন দেহ। 
অন্নের কারণে করে আত্মহত্যা কেহ।।

বল দেবী! বল বল কি পাপের ফলে।
দুর্ভিক্ষ অনলে সদা মর্তবাসী জ্বলে ?

বিষাদিতা হয়ে মাতা অতি দুঃখ মনে।
মৃদুস্বরে নারদকে কহেন তখনে।।

মানবের সুখ-দুঃখ অথবা পতন।
দুষ্কৃতীর ফল মাত্র জানিবে কারণ ।।

যে গৃহে স্ত্রীলোকের নিত্য অপমান হয়।
সে বাড়িতে লক্ষ্মী দেবী বাঁধা নাহি রয় ।।

অন্যের মেয়ে বলিয়া যে বিদ্রুপ করে।
পুত্রবধূ নিজ কন্যা যে নাহি মনে করে ।।

তার পূজা-আর্চা হয় বৃথা সকল।
সংসারের দায় কষ্ট সেই পাপেরই ফল ।।

যে বধূ রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী হয়।
তার প্রতি দুর্ব্যবহার করে কোন নির্দয় ?

অনাহারে অনাদরে সে যখন পরে থাকে ঘরে।
তা দেখিয়া লক্ষ্মী দেবীর অশ্রু জল ঝরে ।।

বিদর্ভ নগরে এক গৃহস্থ ভবনে।
বিবাহের পর আসিল এক ব্রাহ্মণ কণে ।।

রূপে গুণে লক্ষ্মী, বড় মিঠে আচরণ।
তা দেখিয়া বাহ বাহ করেন গুরুজন ।।

সমবয়সীরা মনে করে সখি সহোদরী।
কনিষ্ঠরা জড়িয়ে ধরে নিজ দিদি মনে করি ।।

এসব দেখিয়া তার শাশুড়ি শাপ শাপান্ত করে।
ঝাঁটা নেড়ে খোটা দেয়, বলে 'ডাইনি এসেছে ঘরে' ।।

সে যতই এক মনে পতি সেবা করে।
বুড়ি ভাবে পুত্রবধূ তাবিচ-কবচ করে ।।

এর কুপ্রভাবে তো গেরস্ত হাত ছাড়া হবে।
স্বামী-পুত্র-আত্মীয় কেহই নাহি রবে ।।

একে একে রাক্ষসী করিবে সকলকে ভক্ষণ।
কি করিয়া রুখিবে তার এই বজ্রপণ ?

স্বার্থান্ধ হইয়া বুড়ি যায় এক কাপালিকের নিকট।
রক্তবর্ণ চক্ষু তাহার, চাহনি বিকট ।।

সব শুনিয়া আনিয়া দেয় এক বিষাক্ত শিকড়।
বলে,'দুধে মিশিয়ে গিলে খাওয়ালে হবে শাপে বর' ।।

পরশ্রীকাতর বামনী এ নাহি জানে।
পুত্রবধূ গর্ভবতি, তাই হর্ষ তার প্রাণে ।।

ডাকিয়া তাহারে সে এক ঢোক গিলায়।
'নিপাত যাক ডাইনি!' মনে মনে কয়।।

পুত্রবধূ সদাহাস্যময়ী লাস্যময়ী দিন রাত।
দুধ খেয়ে শাশুড়ির চরণে দেয় হাত ।।

শাশুড়ির অপেক্ষা করে কখন হবে রাক্ষসীর পতন।
ঈর্ষাকাতর হয়ে দেখে অলীক স্বপন ।।

পুত্রবধূর আয়ু বাড়ে, হ্রাস নাহি পায়।
বিষপানে নাহি হয় তার ক্ষয় কায় ।।

সব বুঝিয়া পুত্রবধূ দেয় তার দেবীরূপ দর্শন।
রং-এ রূপে গলে যায় শাশুড়ির মন ।।

এক হস্তে কমল ধরি বর্ষিছে আশীর্বাদ।
অন্য হস্তে খর্গ ধরি করে অন্যায়ের প্রতিবাদ ।।

এক স্তন পিয়ে শিশু পায় নব জীবন।
অন্য স্তনে বাঁধা থাকে স্বামীর যৌবন ।।

স্ত্রী-কন্যা-মাতার বিশ্বরূপ দেখি শাশুড়ি কাঁদে।
ভাবে ,'ঘরের লক্ষ্মীর হত্যা করিব কি সাধে?'

শাশুড়ি কান্না দেখে বধূর মন হয় কোমল ।
ফিরে আসে নারীরূপে, মুছে দেয় চোখের জল ।।

বধূ তার স্বয়ং লক্ষ্মী দেবী, পুত্র নারায়ণ।
এ হেন বিচার করে জুড়ায় চিৎ-মন ।।

হর্ষে বিলাসে সে উছলিয়া উঠে।
লক্ষ্মীর নব ব্রতকথা প্রচার করে হাঠে মাঠে ঘাটে ।।

শাস্ত্রের বচনে এই লক্ষ্মীর চরিত্র ।
ভক্তিভরে শুনিলে হবে পরম পবিত্র ।।

সতীর সাধনার ধন এই ব্রত কথা।
কালে কালে প্রতি গৃহে হক প্রচলিত ।।

Friday, September 15, 2017

Paris Je t'aime

Why do I love Paris? Let me count the ways. Old book stores; cafes open till late at night; worn out doors that are no less than art; beautiful, stylish  people walking by while speaking French; neighborhood markets; the promise of finding something spectacular at every turn.

I have always considered myself an old soul. And this place makes me feel alive more than any other place. All my life, I have felt like an outsider. But Paris makes me feel welcome even if I am an outsider. I don't have to stand and stare through the window. I can blend in with all my strangeness and feel invisible, yet present.

This is my second short visit after July. I have no shame in admitting that I will be back again. Soon. 

Friday, September 08, 2017

I remember

I remember..

You walking through the snow in the winter of Boston. We were poor graduate students who seldom had the money to go on dates. Sometimes, we went to the movies together. You bought the tickets while I got the popcorn. We shared a buttery or caramelly kiss depending on the flavor. Then we burped from drinking too much soda and laughed.

We were young and in love.