Copyright

Protected by Copyscape Duplicate Content Software You will copy with risks to penalties and criminal procedures.
Showing posts with label Bengali. Show all posts
Showing posts with label Bengali. Show all posts

Thursday, June 10, 2021

কৃতজ্ঞতা স্বীকার

আমি কি সেই পরিত্যাক্ত মেয়ে যে তুমি ছেড়ে যাওয়ার পর বাঁচা ভুলে গেছে ? আমি কি শুধুই একটা বিষন্ন প্রাণী ?

আমার সব কবিতাই কি তোমার জন্যে ? 

যখন কেউ জিজ্ঞেস করে আমি কেন লিখি আমার শুধু তোমার নামই নেওয়া উচিৎ, তাই না ? 

আমার নামে যদি কেউ কোন প্রবন্ধ লেখে তাহলে সেটার শিরোনাম হওয়া উচিৎ ,'যাকে সে আর চায় নি !'

আমার কবিতার বইয়ের প্রত্যেক পাতায় তোমার নাম হওয়া উচিৎ .. তুমিই তো আমায় খ্যাতি এনে দিয়েছো, তাই না ?

আমাকে ভেঙে চুরে আবার গড়েছ এমন করে যেন নিজেকেই নিজের থেকে বেশি মনে হয়.. 

পৃথিবীর সমস্ত একাকী রমনীদের জন্যে গল্প শুনাচ্ছি , 

তাদের শব্দের বেহালা শুনিয়ে ঘুম পারাচ্ছি...

সব কৃতিত্ব তো তোমার , তাই না ?

এই গল্পই তো তুমি সবাইকে বলো 

যে আমি ভালোবেসেছিলাম কিন্তু তুমি ভালবাসো নি ...

কিন্তু আমি তো তোমায় সেই রাতেই বলেছিলাম 

যখন তুমি আমায় বারণ করেছিলে তোমাকে নিয়ে লিখতে,  

বলেছিলাম - 

আমার লেখা সমস্ত কবিতা শুধু আমার নিজের জন্যেই !

Tuesday, June 08, 2021

Taranath Tantrik Story

আমার বাঙালি ভাই ও বোনেরা, যারা গল্প পড়তে আর শুনতে ভালোবাসেন তাঁদের জন্যে একটা বিশেষ নিবেদন -  ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করার চেষ্টা করছি। তারাদাস  বন্দোপাধ্যায়ের লেখা অতিপরিচিত -তারানাথ তান্ত্রিকের গল্প।
ভালো লাগলে অবশ্যই  শেয়ার করবেন।  আর কি কি গল্প শুনতে ইচ্ছুক আমাকে অবশ্যই বলবেন।  
শুভেচ্ছা।  

Part 1


Part 2

Wednesday, May 13, 2020

Tripti Bay Area Rabindra Jayanti 2020 Celebration



Last weekend, the residents of Bay Area who originally hail from Tripura, and are now together in a group called Tripti (তৃপ্তি), organized a program to celebrate the birthday of Gurudeb Rabindranath Tagore. I had the honor of hosting it and contributing in my small way. Enjoy the performances if you can understand Bengali.

Sunday, April 19, 2020

Pagla Saheber Kobor by Shirshendu Mukhopadhyay



শীর্ষেন্দু মুখপাধ্যায়ের লেখা পাগলা সাহেবের কবর বইটি আমার কেন ভালো লেগেছিলো তার একটু আলোচনা 

Monday, April 13, 2020

দেবী- হুমায়ূন আহমেদ/ Devi by Humayun Ahmed


"যখন মানুষের খুব প্রিয় কেউ তাকে অপছন্দ, অবহেলা কিংবা ঘৃণা করে তখন প্রথম প্রথম মানুষ খুব কষ্ট পায় এবং চায় যে সব ঠিক হয়ে যাক । কিছুদিন পর সে সেই প্রিয় ব্যক্তিকে ছাড়া থাকতে শিখে যায়। আর অনেকদিন পরে সে আগের চেয়েও অনেকবেশী খুশি থাকে যখন সে বুঝতে পারে যে কারো ভালবাসায় জীবনে অনেক কিছুই আসে যায় কিন্তু কারো অবহেলায় সত্যিই কিছু আসে যায় না।”

Wednesday, April 08, 2020

The Golden Fortress by Satyajit Ray

Reading The Golden Fortress by Satyajit Ray in Bengali
সোনার কেল্লা - প্রথম অধ্যায়


Please, do not cheat. Test the inner detective in you and answer the following questions after you have heard the video only once:

1. What was the first Hindi song playing in the neighbor’s house?
2. What is the name of the past client that referred Feluda to his current client?
3. What is the name of the bookstore of his current client?
4. What is the address of the client?
5. Who was kidnapped mistaken for Mukul? How old is Mukul?
6. Which three places in Rajasthan were mentioned by Topsey?
7. Which astronomer stated that the planets move around the sun in an elliptical path?
8. Which two cases were missed by Topsey after the Gangtok case?

Friday, April 03, 2020

মায়া

সবে ডাক্তারি পাশ করে রায়পুরে সরকারি হাসপাতালে বদলি হয়ে এসেছি ।

গ্রামে তখন লর্ড সিনহাদের জমিদারি । ট্রেনে করে যখন প্রথম রায়পুর পৌছালাম, তখন সূর্যদেব কুয়াশার আড়ালে মুখ ঢেকে রেখেছে । কিছু ভোরের পাখি ছাড়া আর চারিদিকে কোন শব্দ নেই । স্টেশনেই জলখাবার সেরে রওনা হলাম হাসপাতালের উদ্দেশ্যে । ইচ্ছে ছিল জয়েন করে, হাসপাতালে দিনটা কাটিয়ে এরপর গিয়ে সরকারি আবাসে মাল সমেত একেবারে উঠব ।

দপ্তরী কাজ মিটিয়ে যখন কিছু রোগী দেখা হয়ে গেছে তখন জমিদারবাড়ির এক পেয়াদা এসে
খবর দিল যে আমার সান্ধ্যভোজনের আয়োজন আজ জমিদারবাড়িতে হয়েছে । আর জমিদার বাবু হুকুম করেছেন যেন আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া হয় । যখনকার কথা বলছি তখন টেলিফোনের ওত চল ছিল না কিন্তু মানুষের আতিথেয়তা ছিল অতুলনীয় । কাজেই, নবাগত আগন্তুককে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো খুব একটা অসাধারণ কিছু ছিল না । সারাদিন পরিশ্রম করে আমার খিদেটাও বেশ চাড়া দিয়ে উঠেছিল তাই আমি বিনা বাক্য ব্যায়ে জমিদারের আজ্ঞাবাহীর সঙ্গে জমিদারবাড়ি উপলক্ষে রওনা দিলাম ।

রাস্তায় যা দৃশ্য দেখলাম তাতে মন প্রাণ জুড়িয়ে গেল । লক্ষী সরোবরে তখন শীতকালের কিছু পরিযায়ী
পাখি জটলা পাকিয়ে মেলা হইচই করছে । যেন পাখিদের অর্কেস্ট্রা প্র্যাকটিস ।স্ফটিকের মতো স্পষ্ট
জলে তখন সূর্য অস্তের নৈসর্গিক মুহূর্ত প্রতিবিম্বিত হচ্ছিল । সেটা দেখে আমার সারা দিনের ক্লান্তি কোথায় বাষ্প হয়ে উড়ে গেল ।

Tuesday, July 23, 2019

আত্মীয়-স্বজন

আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন আমাদের বাড়িতে কেউ এলে মা তাকে ভাত না খাইয়ে যেতে দিতেন না, সে যত দূরসম্পর্কের আত্মীয়ই হোক না কেন ।  এর মধ্যে তুলনামূলক যাদের অবস্থা বেশি ভালো ছিল না তাদের কিছুটা জোর করে- আরো বেশি বেশি করে খাওয়াতেন ।  আমরা জানতাম যে হয়ত অনেকদিন তার ভালোমন্দ কিছু জোটেনি, তাই ডাল-ভাত-ভাজা-তরকারি-মাছের পর অনেক সময় মা দোকান থেকে রসগোল্লা-পান্তুয়া আনিয়েও  খাওয়াতেন   মাকে তখন আমার খুব ভালো লাগত ।  

এমন একজন দূরসম্পর্কের আত্মীয় ছিল যার ভীষণ চুরির বাতিক ছিল ।  দামি গয়না টয়না নয়, খুচরো টাকা পয়সা বা ইমিটেশন জুয়েলারি কিংবা চুলের ক্লিপ - এসব ছোটখাটো জিনিস তার যাওয়ার পর প্রায়ই হাওয়া হয়ে যেত ।   মা তো একবার তাকে রান্নাঘর থেকে পেঁয়াজ চুরি করতেও দেখেছিলেন ।   আমি মাকে জিজ্ঞেস করতাম যে,’ তুমি ওকে কিছু বলো না কেন?’ মা তখন খুব গম্ভীর হয়ে বোঝাবার চেষ্টা করতেন যে তার প্রয়োজন আমাদের থেকে বেশি ।  আমাকে সান্তনা দেওয়ার জন্য বলতেন যে, ‘আচ্ছা, আগামীবার তুমি একটু চোখে চোখে রেখো!’

কিন্তু এরপরও সে এলে মার ব্যবহারে কোন ত্রুটি থাকত না ।  আমি তখন বুঝতে পারতাম না যে কারোর পরিস্থিতির জন্য সে পুরোপুরি নিজে দায়ী নাও হতে পারে ।  তার অনেক চাহিদা থাকতে পারে যা তার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়  ।  তখন সে অন্যের জিনিস চুরি করার মতলব করে ।   কিছুটা হয়ত অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায় ।  না হলে আলু-পেঁয়াজ-লেবু এসব না বলে ব্যাগের মধ্যে কে ঢুকায় ? 

যখন কাউকে দেখে মনে হয় যে মনের দিক দিয়ে তারা কত দরিদ্র, কত বিকারগ্রস্ত- তখন ছোটবেলার কথা মনে হয় - হয়ত তার পরিস্থিতির জন্য সে নিজে দায়ী না।  হয়ত সে সারাটা জীবন অন্যের জিনিসের প্রতি লোভ করে কাটিয়ে দেবে।  এখানে ক্ষতি খুব একটা হয়ত আমার হচ্ছেও না।  কিন্তু সবাই জানে কার মনে চোর। সে হয়ত নিজেও জানে এবং মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দেয়।  সকল পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়া সবার পক্ষে সম্ভব না।  কিন্তু নিজেকে বারে বারে লাঞ্চিত করাতে কি সুখ আছে তোমরা বলতে পারো ?

Sunday, March 03, 2019

সঙ্গীতা

আমার সকল কৃতিত্বের পর একরাশ দীর্ঘশ্বাস হানা দেয় বারে বারে । নিজেকে বোঝাই শুধু -একা থাকাটা কি অন্যায় ? একজন সফল নারী কেন পারবে না একজন সফল পুরুষের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে? কেন কানাঘুষো, ফিসফাস ? দেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেই ফিসফিস নাগপাশের মত পেচিয়ে ধরে । প্রাণ বুঝি এই যায়, সেই যায়।

এতদিন তোমাদের মনোরঞ্জন করেছি আমার গান শুনিয়ে । সেই ললিতকলার মান রাখ অন্তত । কেন অনুষ্ঠানের শেষে চোখের লালসায় একে একে আমার ব্লাউজের বোতাম খুলে দিতে চাও ? আশীর্বাদ করার ভান করে আমার পিঠে হাত বুলিয়ে ব্রায়ের স্ট্র্যাপ অনুভব করার চেষ্টা করো? কি করে সাহস হয় তোমাদের ? আমি বিবাহিত না বলে?

আমার শুভ পরিণয় হয়ে গিয়েছিল আমার ষোল বছর বয়সে । মনে মনে তাঁকে আমার স্বামী স্বীকার করেছিলাম । তিনি আজ নেই । শুধু তাঁর দেওয়া সুর রয়ে গেছে ।

তোমাদের মত অসম্পন্ন পুরুষ যখন আমাকে লিপ্সার চোখে দেখে তখন আমার ঘেন্না হয় ।এই নারী জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা হয়।

ভালো লাগে একটা নিষ্পাপ জিনিসকে এভাবে নষ্ট করে দিতে ? কি শাস্তি দেব তোমাদের - নীরবতা ছাড়া ?

Sunday, October 21, 2018

ফিরে পাওয়া

কখনো মনে হয় ফেলে আসা দিনগুলো ছিল সোনায় মোড়া?
এক টুকরো গোধূলির সূর্যে রাঙা আকাশটা ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। 
তাও আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম ‘এটাই স্বর্গ!’ ভেবে । 

ব্যাংকে রাখা মূলধন সুখের হিসেব দেয় কি?
সবকিছু থেকেও যেন কোথাও একটা অতৃপ্তি-
দুজনের প্রতি দুজনের অনেক নিঃশব্দ অভিযোগ । 

চলো না আজ ফিরে যাই সেই ফেলে আসা গোধূলির মুহূর্তে, 
তেমনি রাঙ্গুক না আকাশ আজ তোমার চুম্বনে । 

Monday, April 30, 2018

অতিথি

কাউন্ট ড্রাকুলার গল্প যদি বাংলায় লেখা হত তাহলে তা কেমন লাগত? অবশ্যই ট্রানসিলভানিয়ার কাউন্ট তখন হয়ে যেতেন বাংলাদেশের কোন বনেদি জমিদার বংশের বংশধর । আর জনাথন হারকার হয়ে যেতেন কোন ছাপোষা নেহাতই ভালোমানুষ বাঙালি ভদ্রলোক । 

ধারাবাহিকভাবে লেখার চেষ্টা করছি একটা অনুপ্রাণিত গল্প । তার প্রথম ও দ্বিতীয় অধ্যায় আমার ব্লগে প্রকাশ করলাম । ভালো লাগলে মন্তব্য করবেন

প্রথম অধ্যায়
হাওড়া ছেড়ে তখন রেলগাড়ি শিবনারায়ণপুর স্টেশনে পৌঁছেছে । আমি গাড়ি থেকে নেমে একটা টাঙ্গা খুঁজছি । স্টেশন মাস্টার খুব সুহৃদ ব্যক্তি । বললেন, ‘এই সময় তো টাঙ্গা পাওয়া মুশকিল । আপনি বরং আমার অফিস ঘরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করুন।’ আমি ধন্যবাদ জানিয়ে উনাকে বললাম যে আমি ওয়েটিং রুমেই ভালো সময় কাটাতে পারব । শুধু শুধু উনাকে বিব্রত করা উচিত মনে করলাম না ।

ওয়েটিং রুমের দিকে তখন সবে পা বাড়িয়েছি, উনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তা কোথায় যাওয়া হচ্ছে?’ আমি বললাম ‘জমিদার দেবনারায়ণ বাবুর বাড়িতে ।’সেটা শুনে একটা গ্রাম্য গোছের বয়স্ক মহিলা জোরে জোরে হরি নাম জপতে লাগলেন। আমার ব্যাপারটা এতই অদ্ভুত লাগলো যে আমি কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে চেয়ে রইলাম । স্টেশনমাস্টার আমতা আমতা করে আমাকে বললেন, ‘বয়স্ক লোকদের অনেক কুসংস্কার থাকে, আপনি কিছু মনে করবেন না । ওই বাড়ির খুব বদনাম আছে । অনেকেই তাই জমিদার বাড়ির নাম শুনলে ভয় পেয়ে যায়।’

বয়স্ক স্ত্রীলোকটি কিন্তু কোন দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে সোজা উঠে এসে আমার হাত ধরে ফেললেন । কাকুতি মিনতি করে বলতে লাগলেন যে, ‘খোকা, এত কম বয়সে বেঘোরে প্রাণটা কেন দিতে চাও? আমাদের তো যাওয়ার আর কোন জায়গা নেই কিন্তু তুমি শহর ছেড়ে এই পাড়াগাঁয়ে কেন মরতে এসেছ?’

বার্ধক্য জনিত ভীমরতি ভেবে আমার তার প্রতি খুব দয়া হল, তাই আমি উনাকে ঠেলে সরিয়ে দিতে পারলাম না । আমার ঠাকুমাও শেষ বয়সে নানা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতেন আর সন্ধ্যা হতে না হতেই কোন শব্দ শুনলে চেঁচিয়ে বলতেন, ‘কে যায়? কে যায় ওখানে?’ প্রথম কয়েক বার অনেক খোঁজাখুঁজির পর যখন কাউকে পাওয়া গেল না তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে ঠাকুরমার হয়ত স্মৃতি বিভ্রম হচ্ছে এবং শ্রাবণেন্দ্রিয় সংক্রান্ত হ্যালুসিনেশন হচ্ছে । যখন শব্দ হচ্ছে না উনি শুনতে পাচ্ছেন আর যখন সত্যিকারের শব্দ হচ্ছে উনি সেটা শুনতে পারছেন না । এই বৃদ্ধা হয়ত সমস্ত নব আগন্তুককে সাবধান বাণী শুনিয়ে তার কর্তব্য পালন করেন ।সত্যি বলতে কি পথে-ঘাটে তো বিপদের অভাব নেই । বেঘোরে প্রাণ যাওয়াটা আজকাল কিছুই অস্বাভাবিক নয় ।

বৃদ্ধাকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য যখন লোকজন উঠে পড়ে লেগেছে তখন তিনি নিজের হাতের রুদ্রাক্ষের মালাটা আমার হাতে দিয়ে বললেন, ‘ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন বাছা । দুধের বাছা আমার । আহা! কি সুন্দর মুখখানি! যেন রাজপুত্তুর! ’

লজ্জায় আমার মুখ তখন লাল হয়ে গেল ।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর স্টেশন মাস্টার এসে বললেন যে জমিদার বাড়ি থেকে একটা ঘোড়ার গাড়ি এসেছে । সন্ধ্যা তখন ঘনীভূত । বাইরে পরিষ্কার কিছুই দেখা যাচ্ছে না । দূরের আমবাগানের গাছগুলো অতীন্দ্রিয় প্রহরীর মত নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে । যেন কিসের অপেক্ষায় । এখানে কুসংস্কারাচ্ছন্ন হওয়াটা কিছু অস্বাভাবিক নয় । বিজলি বাতি আসে নি । রাস্তাঘাট অন্ধকার । প্রকৃতির প্রভাবই বেশি । ফলে আমাদের পূর্বপুরুষেরা যেসব অলীক ভয় কল্পনা করে জীবন রক্ষা করতেন সেসব কল্পনা এখানে এখনো জীবিত আছে ।


Sunday, November 05, 2017

কালু

জেঠিমা মারা যাবার পর জেঠামশাই ভীষণ মুষড়ে পড়েছিলেন জেঠুর ছেলে পুলে নেই  ভাই বোনদের বিয়ে দিয়ে যখন নিজে বিয়ে করলেন তখন বিয়ের বয়েস কবেই পেরিয়ে গেছেসন্তান সন্ততি বলতে চার ভাইএর একান্নবর্তী পরিবারের ছেলে মেয়েরাজেঠুর কাছে বায়না করলেই পাওয়া যায় বলে জেঠুকে সবাই ভালোবাসত।  জেঠিমা খুব চুপ চাপ ছিলেনঅসুখ হয়ে মারা যাবার পর জেঠুর জন্যে মন খারাপ হল সবারইভালোবাসা কখনো করুণা স্রোতে বাড়ে কিনা

জেঠু উত্তর ঘরে একা শোন বলে বাড়ির মালিকে বলা হল রাতে উত্তরের দালানে শুতে জেঠুর শোবার ঘর দোতালায় নিচে ঘরে ডাক্তারের চেম্বার খুব অল্প বয়েসেই হোমিওপ্যাথির ডাক্তারি করে নাম করেছিলেন কিন্তু স্ত্রী বিগত হয়েছেন অবধি চেম্বারে তালা পুরোনো রোগী কেউ এলে টা ওটার পুরিয়া বানিয়ে দেন কিন্তু আগের মত সেই উৎসাহ কিছুতেই নেই 

খাওয়া দাওয়া খুব কমে গেছে  ক্রমেই তিনি রোগা ভোগা দেখতে হয়ে গেলেন গলার স্বরও যেন কেমন বদলে যেতে লাগল  রাতারাতি বুড়িয়ে যাওয়া মানুষকে দেখে যেমন আঁতকে ওঠে লোকে, পুরোনো পরিচিতরা জেঠুকে দেখে সেই প্রতিক্রিয়াই করতেন  অনেকেই নিজেই ডাক্তারি করে বলতেন- ক্যালি ফোস বা গেলসেমিয়াম খান না কটা !

জেঠু হেসে বলতেন আর আমার জীবনের ক্যালি ফোসই তো ফুস করে পালিয়ে গেল, এখন আর ওষুধ খেয়ে কি হবে ?

আমরা ভাই বোনরা মিলে ঠিক করলাম যে জেঠুর নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্যে একটা কুকুর এনে দেব পাড়ার ভুলোদে বাড়ির কুকুরটা তিনটে ছানা দিয়েছে  সেগুলো একটু বড় হলেই একটা নিয়ে আসা হবে ঠিক হল

যে কথা, সেই কাজ কুকুর ছানাটা কুঁচকুঁচে কালো বলে তার নাম রাখা হল কালু  প্রথম কালুকে নিয়ে গিয়ে জেঠুর পায়ের কাছে রাখা হল জেঠু দোতালার ইজিচেয়ারে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন  বিকেলে চা খেতে খেতে পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটা তখনো ছিল কালু জেঠুকে দেখে আহ্বলাদে আধখানা মনের আনন্দে লেজ নাড়তে নাড়তে  এক পা তুলে হিসি করে দিল সেই দেখে জেঠু বলে উঠলেন - ওরে, ব্যাটার পেটে লিক আছে !

সেই নিয়ে আমরা খুব হাসা হাসি করলাম

কালু আসাতে ভালোই হল  বিকেলে স্কুল থেকে এসে ফুটবল খেললে সেও পায়ে পায়ে হেঁটে অনেক চেষ্টা করত গোল দিতে  ক্রিকেট খেললে বল কুঁড়িয়ে আনত বাগান থেকে  অনেক সময় হিংসুটিপনাও করত  মুখ থেকে বল দিতে চাইত না অনেক কাকুতি মিনতি করে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে তোষামোদ করলে তবেই সে বল দিতরাত হলে খাবার খেয়ে কালু দোতালার বারান্দায় শুয়ে পাহারা দিত মালির সঙ্গেও তার বেশ ভাব হয়ে গিয়েছিলএই রকম করেই আমাদের দিন কাঁটছিল

চেম্বার বন্ধ থাকার দরুণ ঝাড় পোঁছ আগের মতো হত না  ঝি মাঝে মাঝে গিয়ে দরজা জানলা খুলে ঝুল কালি পরিষ্কার করত  একবার হল কি, আমার চার বছরের খুড়তুতো বোন উঠোনের ধারে খেলছিল  ওষুধ পত্র থাকত বলে আমরা কেউই চেম্বারে বিশেষ যেতাম না  তাই ভেতরটা দেখার কৌতূহলও খুব থাকত খুকির বোধ হয় তাই সেই বয়েসে মানা করার কারণ বোঝানোও শক্ত  সে করল কি -ঝি পোঁছা দিয়ে এক বালতি কাদা জল ফেলতে কলপার গেল নতুন জল আনবে বলে আর খুকি গুটি গুটি পায়ে চেম্বারে ঢুকে পড়

তাই দেখে কালুর কি চেঁচামেচি ! সে ছুটে গিয়ে চেম্বারে কাকে খুব বকতে লাগলো  হাঙ্গামা শুনে আমরা খেলা ছেড়ে উত্তর দালানের দিকে দৌঁড়ে গেলাম গিয়ে দেখি খুকি দুয়ারে বসে কাঁদছে  আর কালু ভীম বিক্রমে এক কালো কেউটের সঙ্গে ঝগড়া করছে আর খুব বকছে।  চেম্বার অনেক দিন বন্ধ থাকায় ইনি এসে আস্তানা গেড়েছেন। কেউটে ফণা তুলে কালুকে এই কামড়ায় কি সেই কামড়ায়।  দু তিন বার ছোবল মারার ব্যর্থ চেষ্টাও করল। কিন্তু কালু আমাদের ব্ল্যাক কমান্ডো। তাকে নাগাল পাওয়া ভার। অনেক পুরোনো বাড়িতে বাস্তুসাপ থাকে ঠিকই কিন্তু এখানে তো মানুষের বাস আছে বিষাক্ত সাপ থাকলে সর্বনাশ!

সঙ্গে সঙ্গে লাঠি সোঠা এনে সেই সাপ তাড়ানো হল  বাড়ির পশ্চিম দিকে একটা পুকুর ছিল সেই দিকে সাপটা পালাল। বাড়ির চারদিকে কার্বলিক অ্যাসিড দেওয়া হল। আর সবাইকে সাবধান করা হল চোখ কান খোলা রাখতে।  কিছু দিন আমরা রাতে টয়লেট যেতে সঙ্গে টর্চবাতি, লাঠি আর মালিকে ডেকে নিয়ে গেলাম । 

কালুকে সাপে কেটেছে কিনা দেখে জেঠু ওর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে সস্নেহে বললেন - আজ থেকে তোর নাম বীর বাহাদুর কালু সর্দার

কালু বলল - উফ!

এই ঘটনার পর একটা জিনিস হল - ভারতবৰ্ষে সাপের কামড়ে যে প্রতি বছর ৪৬,০০০ এরও বেশি লোক মারা যায় সেটা জানতে পেরে জেঠু উঠে পরে লাগলেন এন্টি-ভেনম কিনে এনে গ্রামে গঞ্জের হাসপাতালে বিতরণ করতে  অনেক দিন পর তিনি যেন জীবনে নতুন উদ্দেশ্য খুঁজে পেলেন