সবে ডাক্তারি পাশ করে রায়পুরে সরকারি হাসপাতালে বদলি হয়ে এসেছি ।
গ্রামে তখন লর্ড সিনহাদের জমিদারি । ট্রেনে করে যখন প্রথম রায়পুর পৌছালাম, তখন সূর্যদেব কুয়াশার আড়ালে মুখ ঢেকে রেখেছে । কিছু ভোরের পাখি ছাড়া আর চারিদিকে কোন শব্দ নেই । স্টেশনেই জলখাবার সেরে রওনা হলাম হাসপাতালের উদ্দেশ্যে । ইচ্ছে ছিল জয়েন করে, হাসপাতালে দিনটা কাটিয়ে এরপর গিয়ে সরকারি আবাসে মাল সমেত একেবারে উঠব ।
দপ্তরী কাজ মিটিয়ে যখন কিছু রোগী দেখা হয়ে গেছে তখন জমিদারবাড়ির এক পেয়াদা এসে
খবর দিল যে আমার সান্ধ্যভোজনের আয়োজন আজ জমিদারবাড়িতে হয়েছে । আর জমিদার বাবু হুকুম করেছেন যেন আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া হয় । যখনকার কথা বলছি তখন টেলিফোনের ওত চল ছিল না কিন্তু মানুষের আতিথেয়তা ছিল অতুলনীয় । কাজেই, নবাগত আগন্তুককে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো খুব একটা অসাধারণ কিছু ছিল না । সারাদিন পরিশ্রম করে আমার খিদেটাও বেশ চাড়া দিয়ে উঠেছিল তাই আমি বিনা বাক্য ব্যায়ে জমিদারের আজ্ঞাবাহীর সঙ্গে জমিদারবাড়ি উপলক্ষে রওনা দিলাম ।
রাস্তায় যা দৃশ্য দেখলাম তাতে মন প্রাণ জুড়িয়ে গেল । লক্ষী সরোবরে তখন শীতকালের কিছু পরিযায়ী
পাখি জটলা পাকিয়ে মেলা হইচই করছে । যেন পাখিদের অর্কেস্ট্রা প্র্যাকটিস ।স্ফটিকের মতো স্পষ্ট
জলে তখন সূর্য অস্তের নৈসর্গিক মুহূর্ত প্রতিবিম্বিত হচ্ছিল । সেটা দেখে আমার সারা দিনের ক্লান্তি কোথায় বাষ্প হয়ে উড়ে গেল ।
গ্রামে তখন লর্ড সিনহাদের জমিদারি । ট্রেনে করে যখন প্রথম রায়পুর পৌছালাম, তখন সূর্যদেব কুয়াশার আড়ালে মুখ ঢেকে রেখেছে । কিছু ভোরের পাখি ছাড়া আর চারিদিকে কোন শব্দ নেই । স্টেশনেই জলখাবার সেরে রওনা হলাম হাসপাতালের উদ্দেশ্যে । ইচ্ছে ছিল জয়েন করে, হাসপাতালে দিনটা কাটিয়ে এরপর গিয়ে সরকারি আবাসে মাল সমেত একেবারে উঠব ।
দপ্তরী কাজ মিটিয়ে যখন কিছু রোগী দেখা হয়ে গেছে তখন জমিদারবাড়ির এক পেয়াদা এসে
খবর দিল যে আমার সান্ধ্যভোজনের আয়োজন আজ জমিদারবাড়িতে হয়েছে । আর জমিদার বাবু হুকুম করেছেন যেন আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া হয় । যখনকার কথা বলছি তখন টেলিফোনের ওত চল ছিল না কিন্তু মানুষের আতিথেয়তা ছিল অতুলনীয় । কাজেই, নবাগত আগন্তুককে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো খুব একটা অসাধারণ কিছু ছিল না । সারাদিন পরিশ্রম করে আমার খিদেটাও বেশ চাড়া দিয়ে উঠেছিল তাই আমি বিনা বাক্য ব্যায়ে জমিদারের আজ্ঞাবাহীর সঙ্গে জমিদারবাড়ি উপলক্ষে রওনা দিলাম ।
রাস্তায় যা দৃশ্য দেখলাম তাতে মন প্রাণ জুড়িয়ে গেল । লক্ষী সরোবরে তখন শীতকালের কিছু পরিযায়ী
পাখি জটলা পাকিয়ে মেলা হইচই করছে । যেন পাখিদের অর্কেস্ট্রা প্র্যাকটিস ।স্ফটিকের মতো স্পষ্ট
জলে তখন সূর্য অস্তের নৈসর্গিক মুহূর্ত প্রতিবিম্বিত হচ্ছিল । সেটা দেখে আমার সারা দিনের ক্লান্তি কোথায় বাষ্প হয়ে উড়ে গেল ।

